Chang bogo class হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবহৃত অত্যাধুনিক সাবমেরিন৷ এটা মুলত একটি ডিজেল ইলেক্ট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নৌবাহিনীতেও এই সাবমেরিনটির যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলা যায়৷ সাবমেরিনটি ১৯৯৩ সালে প্রথম কোরিয়ান নেভীতে সার্ভিসে আসে। এটিকে মূলত জার্মানির Type 209 সাবমেরিনের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়েছে। পরবর্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া এটার ব্যপক আপগ্রেড করে৷ Chang bogo class সাবমেরিনটিতে রয়েছে ৫০০০ হর্স পাওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি ডিজেল চালিত ইন্জিন। যেগুলো ৩৭০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। বাংলাদেশে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন Chang bogo class সাবমেরিন ভারত চিন্তিত। বাংলাদেশের সাবমেরিন। টেক দুনিয়া
এই সাবমেরিনটি প্রয়োজনীয়ও জ্বালানি ও রসদ নিয়ে একটানা ৫০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে দিতে পারে। এবারে চলুন Chang bogo class আকার আকৃতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক৷ সাবমেরিনটির ওজন ১২০০ থেকে ১৪০০ টন। লম্বায় এটা ১৮৪ থেকে ২০০ ফিট৷ আর প্রস্থ হয় ২১ ফিট৷ সাবমেরিনটি উচ্চতায় ১৮ ফিট৷

মোটমাট ৩৩জন নাবিক থাকতে পারে সাবমেরিনটিতে৷ পানির নিচে এটার গতি সর্বোচ্চ ৪০ কি.মি প্রতি ঘন্টা। আর পানিতে ভাসমান অবস্থায় গতি ২০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা৷ Tech Duniya
সাবমেরিনটির রেন্জ ২০ হাজার কিলোমিটার৷ এটার টেস্ট ডেপথ ৫০০ মিটার। অর্থ্যাৎ এটি সমুদ্রের সর্বোচ্চ ১৬০০ ফিট গভীরে যেতে পারে।
এবারে আসি কি অস্ত্র বহন করে সাবমেরিনটি সে বর্ণনায়৷ সাবমেরিনটতে ৮টি টর্পেডো টিউব রয়েছে৷ এগুলো ৫৩৩ মিলিমিটার৷ সেই সাথে ১৪টি SUT টর্পেডো রয়েছে৷ যেগুলোর রেন্জ ২৮-৩৪ কি.মি৷
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
পাশাপাশি ৮টি UGM-84 হারপুন এন্টি শিপ মিসাইল বহন করতে পারে৷ এগুলোর রেন্জ ২৮০ কি.মি৷
সবশেষে আসি দামের ব্যপারে৷ এগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩০০-৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৫০০ থেকে ৩০০ কোটি বাংলাদেশি টাকা৷ techduniyabd
মোট ১৫টি সবমেরিন নির্মানে পরিকল্পনা রয়েছে৷ এর মধ্যে ১২টি সাবমেরিন অলরেডি সার্ভিসে আছে৷ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে থাকা ৯টি সাবমেরিন চ্যাং বোগো ক্লাস নামে পরিচিত৷ অপরদিকে ইন্দোনেশিয়ার ৬টি সাবমেরিনকে নাগাপাসা ক্লাস বলা হয়৷
এবারে আসি বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে এই সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু সে ব্যপারে৷ বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে আছে মিঙ ক্লাস সাবমেরিন৷ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ চীন থেকে কিংবা রাশিয়ার কিলো ক্লাস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এই চ্যাং বোগো ক্লাস সাবমেরিন কেনার সম্ভাবনাই বেশি বলা যায়৷ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিএনএস বঙ্গবন্ধু ফ্রিগেইটটিকে কিনেছে৷ যার কারনে এই সাবমেরিন বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে এমনটা আশা করাই যায়৷



