আমেরিকাযুদ্ধ জাহাজ

আমেরিকার আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজে কি কি আছে

যুদ্ধের মাঠে আমেরিকা সবথেকে বেশি ব্যবহার করে তাদের নৌবাহিনীর বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজগুলো৷ মোটমাট এগারোটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আছে আমেরিকার কাছে ৷ এদের মধ্যে এই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকোন অন্যতম ৷ তবে অন্যসব যুদ্ধজাহাজের থেকে আব্রাহাম লিংকন আলাদা৷ কারন এটাকে সব সময়ই ইরানের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে ৷ 

আমেরিকানদের দাবী অনুযায়ী এই যুদ্ধ জাহাজটিকে কখনোই ধ্বংস করা সম্ভব নয় ৷ আমেরিকানরা আরও দাবী করে ৯০ বিমান নিয়ে পারমানবিক শক্তিতে চলা এই যুদ্ধ জাহাজটি একাই মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো দেশের সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে৷ তবে  ইরান আমেরিকার এই দাবীকে পাত্তা দেয় না ৷

ইউএসএস আব্রাহাম নিংকনকে প্রথম পানিতে নামানো হয় 1984 সালে এবং সার্ভিসে আনা হয় 1988 সালে৷ জাহাজটির নামকরন করা হয়েছে আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের নামানুসারে যিনি আমেরিকার গৃহযুদ্ধে জয়ী হয়ে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেছিলেন৷ 

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

বিশাল এই জাহাজটি তৈরী করতে খরচ হয়েছিল প্রায় চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ অর্থাৎ গোটা বাংলাদেশের কয়েক বছরের বাজেট৷

আমেরিকান সৈনারা এটাকে ব্লাক পার্ল নামেই ডাকে৷ প্রায় এগারোশ ফিট লম্বা আর একলক্ষ টন ওজনের এই জাহাজটি বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ বড়৷ 

জাহাজটি চলে পারমানবিক শক্তি দ্বারা৷ এর মধ্যে দুটি পারমানবিক রিএ্যাক্টর আছে যা এর চারটি প্রোপেলর বা টার্বাইনকে সব সময় ঘুরাতে পারে৷ এর ফলে জাহাজটিতে কখনও জ্বালানীর জন্য খরচ করতে হয় না৷ এভাবেই কোন প্রকার তেল ছাড়াই টানা পঞ্চাশ বছর জাহাজটি চলতে পারবে৷

যদিও জাহাজটি গতি খুব বেশি নয়, ঘন্টায় মাত্র ৫৬ কিলোমিটার অতিক্রম করতে পারে এটা৷ 

জাহাজটির মুল শক্তি হচ্ছে এর মধ্যে থাকা ৯০টি বিমান এবং আর বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার৷ এই বিমানগুলোর মধ্যে সত্তুরটি বিমান এফএ 18 হর্নেট৷ এই এফএ 18 হর্নেট বিমানগুলোর ক্ষমতা বাংলাদেশের মিগ 29 ববিমানগুলোর সমতুল্য ধরা হয়৷ 

অর্থাৎ গোটা বাংলাদেশে সেরা আটটি বিমানের মতো সত্তুরটি বিমান আছে এই জাহাজটিতে৷ সুতরাং বুঝতেই পারছেন এর ক্ষমতা কত৷

মুলত এফএ 18 বিমান ব্যবহার করা হয় জাহাজ থেকে উড়ে গিয়ে শত্রুদেশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা করার জন্য৷ 

বিশেষ করে ইরাকের সাথে যুদ্ধে এই বিমানগুলো বেশি ব্যবহার করা হয়েছিল৷ এছাড়াও বড় বড় জঙ্গিগোষ্ঠিগুলোর উপরও এই বিমান দিয়ে হামলা করা হয়৷

মুলত মধ্যপ্রাচ্য এবং পাকিস্তান আফগানিস্তানে আমরা আমেরিকার যে বিমান হামলার কথা শুনে থাকি তা এই এফএ হর্নেট বিমানগুলোই করে থাকে৷ আর নিশ্চিৎভাবেই বিমানগুলো এরকম জাহাজ থেকে উড়ে গিয়ে হামলা করে৷ কেননা আমেরিকা থেকে উড়ে এসে কোন বিমান ইরাক বা আফগানিস্তানে হামলা করতে পারবে না৷

তবে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অনেক শক্তিশালী বিমান বহন করে থাকলেও নিজে কিন্তু খুবই নিরীহ৷ কেননা এটাতে তেমন কোন অস্ত্র নেই৷ নামমাত্র অস্ত্র বলতে দুইটি সী স্প্যারো মিসাইল, দুইটি

 RIM 116 মিসাইল এবং দুটি ফ্যালাংক্স ক্লোজ ইন ওয়েপন সিস্টেম আছে যা তেমন একটা নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়৷ যার কারনে সমরাস্ত্রবিদরা এটাকে শুধুমাত্র ভাসমান রানওয়ে বলে৷ 

আর একারনেই এই জাহাটি কখনও একা চলাচল করে না৷ এটাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এর সাথে সব সময় ডেস্ট্রয়ার, ক্রইজারসহ বিভিন্ন যুদ্ধ জাহাজের পাশাপাশি সাবমেরিন ঘুরাঘুরি করে৷ 

এই জাহাজটির ক্ষমতা দেখে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় এটা কয়েকটি দেশকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে৷ আরও অনুমান করা যায় কেউই হয়তো এটাকে কখনও ধ্বংস করতে পারবে না৷ তাহলে ইরান কেন এটাকে ভয় পায় না? আসলে ইরান একটু অন্য কৌশলে বেছে নিয়েছে৷ 

আমেরিকার এসব জাহাজকে উপর থেকে কোন আক্রমন করে ধ্বংস করা সম্ভব না৷ তবে পানির নিচে থাকা সাবমেরিনগুলোর কাছে এরা একেবারই দুর্বল৷ কেননা পানির গভিড়ে থাকা সাবমেরিনের অবস্থান সহজে জানা যায় না৷ যার কারনে এরা হঠাৎ আক্রমন করে বসতে পারে৷ আর এসব আক্রমন  থেকে বাঁচাত ক্ষমতা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেই বললেই চলে৷ 

বর্তমানে সাবমেরিনের মালিকানার দিক থেকে ইরানের অবস্থান ৫ম৷ ছোট বড় মোটমাট ৩৪টি সাবমেরিন আছে ইরানের কাছে৷ আর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকোনকে ডুবিয়ে দিতে ইরানের যেকোন একটি সাবমেরিনই যথেষ্ঠ৷

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close