চীনভারতযুদ্ধ বিমানসামরিকশক্তি

চীনের ভয়ংকর বিমানবাহিনী। ভারত চীনকে কেন এত ভয় পায়

বলা হয়, চীনের আকাশে এতো বেশি যুদ্ধ বিমান উড়ে বেড়ায় যে, সাধারন যাত্রীবাহি বিমান সময়মতো আকাশে উড়ার জন্য অনুমতি পায় না৷ চীনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ভারতের মোট ফাইটার বিমানের সংখ্যার দ্বিগুণের চেয়েও বেশি ফাইটার আছে চীনে হাতে৷আমেরিকা রাশিয়া ছাড়া একমাত্র চীনের হাতেই হেভি বোম্বার বিমান আছে, যেগুলো বোম্বিং করে একটা বড় শহরকে ছাই করে দিতে পারে। টেক দুনিয়া এমনকি রাশিয়াকে টপকিয়ে চীন আমেরিকার সাথে পাল্লা দিয়ে বিপুল সংখ্যক স্টিল্থ যুদ্ধ বিমান সার্ভিসে এনেছে, যেগুলো রাডারে ধরা পরে না৷

প্রথমেই আসি চীনে বিমান বাহিনীর সৈন্য সংখ্যার ব্যপারে৷ কেননা এই সংখ্যাটি আপনাকে তাজ্জব করে ফেলবে! প্রায় ৪ লাখ সৈন্য আছে চীনের বিমান বাহিনীতে অর্থাৎ বাংলাদেশের সেনা নৌ এবং বিমান এই তিন বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যার দ্বিগুন সৈন্য কেবলমাত্র চীনের বিমান বাহিনীতেই রয়েছে! চীনের বিমান বাহিনীর প্রধানের নাম ডিঙ লাইহাঙ৷

চীনের বিমান বাহিনীতে মোট বিমান আছে ৫ হাজার ২শ উপরে৷ এর মধ্যে ফাইটার, এ্যাটাক এবং বোম্বার আছে ৩ হাজারের উপরে৷ চীনের ফাইটারগুলো তাদের নিজেদের তৈরী অথবা রাশিয়ার কাছে কেনা৷ বর্তমানে তাদের বহরে থাকা সবথেকে শক্তিশালী আর আধুনিক ফাইটার হচ্ছে চেংডু J 20. এটি একটি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিল্থ ফাইটার অর্থাৎ রাডারে ধরা পরে না৷ রাশিয়া এবং আমেরিকা ছাড়া আর কারও হাতে এ ধরনের বিমান নেই৷ চীনের কাছে কমপক্ষে পঞ্চাশটি এ ধরনের বিমান আছে৷ এরপর যে বিমানটির কথা বলা যেতে পারে সেটা হলো শেনইয়াং J 16. এটা চীনের একমাত্র স্ট্রাইক ফাইটার৷ সেই সাথে চীনের বহরে থাকা সবথেকে দ্রুতগতির ফাইটার৷ বিমানটি পুরো ভারতজুড়ে যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা রাখে৷ চীনের হাতে বর্তমানে ১৩০টির অধিক এধরনের বিমান আছে৷ tech duniya

চীনের বহরে রাশিয়া তৈরী দুটি মডেলের ফাইটার বিমান আছে৷ এগুলো হলো সুখোই Su 30MKK এবং সুখোই Su 35. দুটো বিমানই এয়ার সুপিরিওরিটি ফাইটার, অর্থাৎ আকাশ যুদ্ধে পারদর্শি৷ এরমধ্যে সুখোই Su 30 আছে ৭৬টি এবং সুখোই Su 35 আছে ২৪টি৷ উল্লেখ্য, ভারতের কাছেও সুখোই Su 30MKI ফাইটার আছে৷ যেটা এখন পর্যন্ত ভারতে সেরা ফাইটার৷ এছাড়াও চীনের নিজেদের তৈরী আরেকটি ফাইটার শেনইয়াং J 11 আছে সাড়ে ৩শ এর মতো৷ এগুলো রাশিয়ার সুখেই Su 27 বিমানের কপি৷ তবে চীনের বহরে থাকা সবথেকে বেশি সংখ্যক ফাইটার হচ্ছে চেংডু J 10 Virgorous Dragon. ৪৩৫টি J 10 বিমান আছে চীনের বহরে৷ বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর জন্য এই বিমানটি কেনা কথা মাঝে মাঝেই শোনা যায়৷tech duniya bangla

এছাড়াও একটু পুরনো বিমান হিসেবে চেংডু J 7 আছে ৩৮৮টি৷ J 7 আমাদের খুব পরিচিত বিমান৷ কেননা বাংলাদেশের বিমান বাহিনীতে থাকা সর্বচ্চ সংখ্যক বিমান এটি৷ বাংলাদেশে এটাকে F 7 বলা হয়৷ বিমানটি মূলত সোভিয়েত মিগ 21 বিমানের কপি৷ অর্থাৎ এটাই একমাত্র বিমান যেটাকে চীন এবং ভারত দুই দেশই উৎপাদন করে৷

চীনের হাতে থাকা একমাত্র ইন্টারসেপ্টর বিমান হচ্ছে শেনইয়াং J 8. ইন্টারসেপ্টর বলতে সেসব বিমানকে বুঝায় যেগুলো শত্রুর বিমানকে ধাওয়া করে৷ প্রায় ১০০টির মতো J 8 ইন্টারসেপ্টর অাছে চীনের হাতে৷

চীনের হাতে বোম্বার আছে দুটি৷ এর মধ্যে Xian JH 7 একই সাথে বোম্বিং এবং গ্রাউন্ড এ্যাটাক দুই কাজেই ব্যবহার করা যায়৷ পাশাপাশি এটা আবার ফাইটার বিমানও৷ মোট ৬৯টি JH 7 আছে চীনের সার্ভিসে৷ techduniyabd

এদিকে Xian H 6 হচ্ছে চীনের স্ট্রাটেজিক বোম্বার! দানবীয় এই বিমানটি হেভি বোম্বিংয়ের মাধ্যমে একটা শহর উড়িয়ে দিতে পারে৷ বিমানটি থেকে পারমানবিক বোমা কিংবা ক্রুইজ মিসাইলও নিক্ষেপ করা যায়৷ বর্তমানে আমেরিকা এবং রাশিয়া ছাড়া কোন দেশের হাতে এধরনে হেভি বোম্বার নেই৷

মোট ১২০টি এধরনের বিমানকে চীন সার্ভিসে রেখেছে৷

এয়াবোর্ন আর্লিওয়ার্নিং এ্যান্ড কন্ট্রোলের জন্য ২৯টি KJ 2000, KJ 200 এবং KJ 500 বিমান আছে৷ এগুলো পিঠে রাডার নিয়ে আকাশে উড়ে বেড়ায়৷

এগুলোর ছাড়াও রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে আক্রমণ চালানোর জন্য চীনের কাছে পাঁচ ধরনের ড্রোন আছে৷ যার মধ্যে চেংডু টেরোডাকটিল বর্তমানে যুদ্ধের ময়দান দাপিয়ে বেরাচ্ছে৷ মিডিয়াতে এটা উইং লুঙ নামে পরিচিত৷ বাংলাদেশের বহরে এই ড্রোন যুক্ত হতে পারে৷

প্রিয় দর্শক, অনেক বিশ্লেষক মন্তব্য করে থাকেন, সামরিক শক্তিতে চীন রাশিয়ার পিছনে থাকলেও আকাশ শক্তিতে চীন রাশিয়াকেও পিছনে ফেলে আমেরিকাকে ধরে ফেলতে যাচ্ছে৷ আপনি কি এই মন্তব্যের সাথে একমত?

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close